দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গুজবের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ সবার সমান অধিকার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতার কারণ হতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবহমানকাল থেকেই এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা সমাজে বিভেদ ও বিরোধ জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বর্তমান সরকার ও বিএনপি এই নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই দেশ সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের অনুষ্ঠানে যারা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ বা আমেরিকায় গেলে আমরা সবাই কথিত সংখ্যালঘু। তাই রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্ম, বর্ণ বা দলের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি। আমাদের সবার গর্বিত পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’
নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ডসহ সব ধর্মের গুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যা সাধ্য অনুযায়ী দল-মত নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।
এমএম/